আসন্ন আইপিএলে প্রথম আমেরিকার ক্রিকেটার হিসেবে আবির্ভাব হতে চলেছে পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত ডান হাতি পেসার বোলার ২৯ বছর বয়সি আলি খানের।
আমেরিকান ক্রিকেটার আলি খান এবার কেকেআর টিমে
কলকাতা নাইট রাইডার্স দলের ক্রিকেটার ইংল্যান্ডের বাঁহাতি পেসার হ্যারি গার্ণী চোটের কারণে আইপিএল আসন্ন আইপিএল থেকে ছিটকে যাওয়ার পর গত সদ্য সমাপ্ত টি-২০ ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে ট্রিনবাগো নাইট রাইডার্স দলের ক্রিকেটার আলি খানকে গার্নির পরিবর্ত হিসাবে দলে নিল কলকাতা নাইট রাইডার্স। গতরশুম থেকেই কেকেআর দলের নজর ছিল আলির ওপর। পাকিস্তানে জন্মগ্রহণ করলেও আলি খান ১৮ বছর বয়সে বাবা মার সাথে আমেরিকাতে পাকাপাকি ভাবে বসবাস করতে শুরু করেন এবং ২০১৬ টে আমিরিকার নাগরিকত্ব পাওয়ার পর আমেরিকার হয়ে ২০১৬ সালে আইসিসির ওয়ার্ল্ড ক্রিকেট লিগ ডিভিশন – ফোর প্রতিযোগিতায় খেলেন । আলী বাংলা দেশ এবং পাকিস্তান টি -২০ প্রিমিয়ার লিগ খেলেছেন। ২০১৮ সালে ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে তার অভিষেক হয় ট্রিনিবাগো নাইট রাইডার্স টিমের হয়ে এবং প্রথম ম্যাচের প্রথম ওভারে শ্রীলঙ্কার সাঙ্গাকারার উইকেট পান। গত সি.পি.লে ৮টি ম্যাচে তার ৮ টি উইকেট আছে।
টি -২০ ইতিহাসে এই প্রথম একটি ম্যাচের দুই ইনিংসেই শূন্য করে প্রথম “গোল্ডেন ডাক” (টেস্ট ক্রিকেটে কোনো ব্যাটসম্যান দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলে গোল্ডেন ডাক বলা হয়) করলেন পাঞ্জাব কিংস ইলেভেন এর বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ওয়েস্টিন্ডিজজাত নিকোলাস পুরান। গতকাল আইপিএলের দ্বিতীয় ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালের মুখোমুখি হয়েছিল পাঞ্জাব কিংস ইলেভেন। উত্তেজনা পূর্ণ ম্যাচে সুপার ওভারে দিল্লি…
আবারও অসাধ্য সাধন করে দেখালেন সৌরভ গাঙ্গুলি আসলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বরাবরই তার সেরাটা বেরিয়ে আসে এটা নতুন কিছুই নয়। ২০ শে জুন ১৯৯৬ সালে ২৪ বছরের ছিপছিপে বাঙালি যুবক সৌরভের ইংল্যান্ডের লর্ডসের মাঠে টেস্ট যাত্রার শুরুর আগে কেউ ভাবতেই পারেন নি তিনি শুরুতেই অনবদ্য সেঞ্চুরি করে বিশ্ব ক্রিকেটে তাক লাগানো অভিষেক থেকেই তিনি কঠিন…
আজ আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে শুরু হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং ধনী টি – ২০ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা আইপিএল। আজ উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই শক্তিশালী দল গতবারের চ্যাম্পিয়ন টিম মুম্বাই ইন্ডিয়ানস এবং রানার্স টিম চেন্নাই সুপার কিং।২০১৯ সালে আইপিএল ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মাত্র এক রানে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স চেন্নাইকে পরাস্ত করে আইপিএল জয় করে।এখনো…
বিভাস মল্লিক (কেসিসি)–নৈহাটির গরফা অঞ্চলের বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি সুশান্ত ঘরামী নিজের ক্রিকেটার হওয়ার অধরা স্বপ্ন পূরণ করতে ছেলেকে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি করালে তার জন্য তাকে যেমন প্রতিবেশীদের কাছে শুনতে হতো কি হবে ছেলেকে ক্রিকেট শিখিয়ে তার চেয়ে লেখা পড়া করে চাকরি করলে ওনার সংসারের অভাব কিছুটা মিটবে ।এই জাতীয় কথা শুধু শুনতে হয়েছিল তা নয় ।এমনও পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল যে অন্যের থেকে টাকা ধার করে সুদীপকে ক্রিকেটার সাজ সরঞ্জাম কিনে দিতেও পিছুপা হননি সুশান্ত বাবু এবং যে যাই বলুক তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন ছেলেকে ক্রিকেট থেকে বিচ্যুত করবেন না তার জন্য যত কষ্ট করতে হয় করবেন।
বাবা, মা ও ভাইয়ের সাথে সুদীপ
দুই সন্তানের পিতা সুশান্ত বাবু বড়ো ছেলে ১২ বছরের সুদীপ ঘোরামিকে স্থানীয় এক ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি করান কোচ দেবেশ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে সুদীপের ক্রিকেটের যাত্রা শুরু এখানে থেকেই তারপর অনূর্ধ্ব ১৪ অম্বর রায় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা তে ভালো খেলে অনূর্ধ্ব পনেরো দলে সুযোগ পায় সুদীপ। নৈহাটির ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেই সুদীপকে ক্রিকেটার তালিম দেওয়া দেবেশ চক্রবর্তী একসময় সুদীপকে নিয়ে নানান ক্যাম্পে যেখানে যখন সুযোগ হতো সে বারাসাত হোক কিম্বা কলকাতা ময়দান সেখানেই প্রাকটিস করতেন কারণ সেই সময় নৈহাটিতে যেই ক্যাম্পে সুদীপের ক্রিকেট হাতেখড়ি সেই ক্যাম্পে সাথে কোচ দেবেশের সাথে সুদীপের ও সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিল তাই ঘুরে ঘুরে সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত সুদীপ কে নিয়ে থাকতেন দেবেশ যার ফলে মাধ্যমিক পাশ করার পর বাধ্য হয়েই সুদীপকে পড়াশুনার ইতি টানা।
মাত্র পনেরো বছর বয়সী সুদীপের সালকিয়া ফ্রেন্ডসের হয়ে সিএবি লীগ ক্রিকেটের শুরু তারপর ধাপে ধাপে ধারাবাহিক ভালো পারফরমেন্স করে বাংলার বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক দল যেমন অনুর্দ্ধ ১৬,১৯,২৩ দলের সাথে সাথে কলকাতা ময়দানে প্রথম ডিভিশন ক্লাব তালতলা একতা ,খিদিরপুর ক্লাবের পর বর্তমানে বরিশা স্পোটিং ক্লাবের খেলছেন সুদীপ।
বাংলার ক্রিকেটে সুদীপ ঘরামী বর্তমান প্রজন্মের সেরা প্রতিভাবান তাই দেবেশ চক্রবর্তীর হাত ধরে ময়দানের ২২ গজে আসা সুদীপের প্রতিভা মুগ্ধ করে ভি.ভি. এস লক্ষণ এবং তাকে অবিলম্বে বাংলার হয়ে রঞ্জি খেলানোর কথা বলেন এবং বাংলা দলের কোচ অরুণ লালের মত পাকা জহুরীর সুদীপের প্রতিভা চিনতে কোনো ভুল হয়নি এবং তার ধারাবাহিক ভাবে বাংলার বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক দলের হয়ে রান করে যাওয়ার ফলে গত মরশুমে বাংলা সিনিয়ার দলে সুদীপকে অন্তর্ভুক্ত করে সরাসরি রঞ্জি ফাইনালে সৌরষ্ট্র এর বিরুদ্ধে রঞ্জিভিশেক ঘটে থিক যেমন ১৯৯০ সালে বাংলা যে বছর দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর রঞ্জি ট্রফি জিতে ছিল সেই ফাইনালে দিল্লির বিরুদ্ধে রঞ্জিভিশেক হয়েছিল আমাদের সকলের প্রিয় সৌরভ গাঙ্গুলির এবং অভিষেকে 22 রান করলেও সেই ইনিংস বুঝিয়ে দিয়েছিল আগামী দিনে বাংলা তথা ভারতবর্ষ কি পেতে চলেছেন সুদীপের ক্ষেএেও তাই l ফাইনালে ওপেন করে দুর্ভাগ্যবশত ২৬ রানে আউট হলেও সেই ইনিংসের মধ্যেও আমরা দেখেছিলাম আত্মবিশ্বাস এবং সাবলীল ব্যাটিং ভঙ্গিমা যা আমাদের মত ক্রিকেট প্রেমীদের সাথে সাথে বাংলা ময়দানের ক্রিকেটার এবং প্রাক্তন টেস্ট তারকা দীপ দাসগুপ্ত থেকে দুই প্রধান দলের নিয়মিত খেলোয়াড় এবং বর্তমানের সফল কোচ আব্দুল মোনায়েমদের কাছে আগামীদিনের তারকার জন্ম হয়েছে বলেই মনে হয়েছে। কাকতালীয় ভাবে সৌরভ আর সুদীপের অভিষেকের প্রেক্ষাপট থেকে নামের অদ্য অক্ষরের মিল যা নিয়ে আমরা দুই দুই এ চার করে স্বপ্নের মায়াজাল বুনতে শুরু করেছি। আগামীদিনের আরো এক তারকার জন্ম কিনা তা আগামী দিন বলবে তবে সুদীপকে বাংলা নেটে বাংলার কোচ অরুণ লাল নানান ভাবে পরামর্শ দেন এবং তাকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করতে সাহায্য করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তুখোড় ক্রিকেট মস্তিষ্ক অরুণ লাল কারণ তুমি জানেন সুদীপ ঘরামী কি অসম্ভর প্রতিভায় সমৃদ্ধ। বঙ্গ ক্রিকেটের স্বপ্ন সুদীপ যে আগামীদিনে বাংলা এবং দেশের হয়ে সাফল্য এনে দিক সেই আশাতেই এখন বাংলার ক্রিকেট প্রেমীরা আশার আলো দেখছেন আর সুদীপের নিজের লক্ষ্য বাংলা দলের হয়ে রান করে যাওয়া যাতে জাতীয় দলের দরজা খুলে যাওয়া কারণ যে কোনো মুল্যে বাবার স্বপ্ন পূরণ তাকে করতেই হবে। তার নিজের চোখে দেখা বাবা এবং পরিবারের নানা প্রতিকূল অবস্থাতেও কিভাবে তাকে ক্রিকেটের জন্য সবরকম ভাবে তার পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাস আর এটাই সুদীপের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার সবচেয়ে বড়ো প্রেরণা।
বিভাস মল্লিক (কেসিসি)- গড়িয়াহাট রোডের নিকটস্থ জগবন্ধু ইনস্টিটিউশন স্কুলের ছাত্রদের নিয়ে একদিন তাদের ক্রীড়া শিক্ষক সুভাষ দত্ত বোটানিক্যাল গার্ডেন ঘুরতে নিয়ে গিয়েছিলেন আর সচরাচর ছাত্রাবস্থায় এই রকম স্কুলের শিক্ষকদের সাথে শিক্ষামূলক ভ্রমণে গেলেও ব্যাট বল, ফুটবল বা ব্যাডমিন্টন রেকেট ইত্যাদি খেলার সরঞ্জাম সঙ্গে থাকে। সেইদিন জগবন্ধু ইনস্টিটিউশনের ছাত্রদের সাথেও ব্যাট বল থাকায় নিজেদের মধ্যে দল তৈরি করে খেলা কালীন ক্লাস সিক্সের এক ছাত্র স্যারের নজরে আসেন তার ব্যাটিং শৈলী দেখে শিক্ষক সুভাষ বাবু মনস্থির করেন বছর বারোর এই ছাত্রকে স্কুলের সিনিয়র দলে খেলবেন। সেই সময় এই স্কুলের ক্রিকেট টীমের খুব সুনাম ছিল আর হবে নাই বা কেন প্রাক্তন টেস্ট তারকা সুব্রত গুহ এই স্কুলের ছাত্র ছিলেন। মাত্র বারো বছর বয়সে স্কুল টিমের হয়ে খেলা শুরু করে ক্রমাগত ভালো পারফর্ম করতে থাকা ছাত্রটি সর্ব বাংলা স্কুল দলে সুযোগ পান এবং এই দলে তার সঙ্গী ছিলেন বাংলার ক্রিকেটের উজ্জল নক্ষত্র পলাশ নন্দী, প্রলয় চেল প্রমুখেরা এরপর পূর্বাঞ্চল স্কুল তারপর ভারতীয় স্কুল দলে মাত্র ১৫ বছর বয়সে ডাক পান জগবন্ধু ইনস্টিটিউশনের সেইদিনের ক্লাস সিক্সের ছাত্র যিনি পরবর্তী কালে বাংলার ক্রিকেটের সবার প্রিয় এবং শ্রদ্ধার রাজা মুখার্জি। রাজা মুখার্জির গড়িয়াহাট রোডের কাছে বাড়ীর প্রশস্ত উত্তরণেই টেনিস বলে ছোটবেলায় ক্রিকেটের হাতেখড়ি এবং সেই সময় তার সহজাত ব্যাটিং শৈলীকে আরো নিখুঁত করতে তার স্কুলের দাদা সতীর্থ সুব্রত গুহ টেনিস বল জলে ভিজিয়ে রীতিমত জোরে বল করতেন এছাড়াও ঋতেন বোস, শিবাজী রায়ের মত ক্রিকেটাররা সবাই ওই বাড়িতেই আসতেন খেলতে। ভ্রাতৃসম রাজাকে ভালো ব্যাটসম্যান করতে চাইতেন তাই ওনাকে বেশি ব্যাট করতে দিতেন। ছোটো থেকে এইভাবেই ক্রিকেটের যাত্রা শুরু রাজা মুখার্জির তথাকথিত কোনো কোচের কাছে কাছে ক্রিকেটের প্রশিক্ষণ না পেলেও পরবর্তী কালে ব্যাটিং এর খুঁটিনাটি ব্যাপারে উন্নতি করতে তাকে সুনীল দাসগুপ্ত সাহায্য করেন। স্কুলে পড়াশোনার সাথেই সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে বালিগঞ্জ ইউনাইটেড ক্লাবের হয়ে ক্লাব ক্রিকেট শুরু করেন রাজা মুখার্জি। এই সময় স্কুল ক্রিকেটে ধারাবাহিক পারফরমেন্সের পর সিএবি থেকে তার নাম বাংলা স্কুল দলের জন্য পাঠানো হলে তিনি বাংলা স্কুল দলের প্রতিনিধিত্ব করেন এবং তারপর পূর্বাঞ্চল স্কুল দলের হয়ে নজরকাড়া পারফর্ম ১৯৬৭-৬৮ সালে অজিত নাইকের নেতৃত্বাধীন ভারতীয় স্কুল দলের হয়ে ইংল্যান্ড সফরে ডাক পান।
১৯৬৭ সালে ইংল্যান্ড সফরে অল ইন্ডিয়া স্কুল টিম । দাঁড়িয়ে বাঁদিক থেকে – এস.মাথুর ( এ্যা.ম্যানেজার), মহিন্ডার অমরনাথ, সুরিন্দর অমরনাথ, লক্ষ্মণ সিং, জাসবীর সিং, অজিত নায়েক (অধিনায়ক), ভি.ফার্নান্দেজ, জে.কে.মহেন্দ্র, কিরমানি, কর্নেল হিমু অধিকারী ( ম্যানেজার), আসিফ, শ্রীরাম (বিসিসিআই সচিব), এস সাহু ( নির্বাচক) বসে বাঁদিক থেকে – দীপঙ্কর সরকার, ইন্দররাজ , টান্ডন, রাজা মুখার্জি, অরুণ কুমার , অভি কামেকার, এবং জে ভুট্টা। ছবি সৌজন্য – ক্রিকেটার ম্যাগাজিন।
বাংলা থেকে সেই দলে রাজা মুখার্জি ছাড়াও দীপঙ্কর সরকার সুযোগ পান এবং এই সফরে প্রায় ১৭টি ম্যাচে ভারতীয় দল একটি বাদে সব ম্যাচ অপরাজিত থেকে সফর শেষ করে। এই সফরে তার সঙ্গী ছিলেন ভারতীয় টেস্ট তারকা মহিন্দর অমরনাথ, সুরিন্দর অমরনাথ, সৈয়েদ কিরমানির মতো ক্রিকেটাররা। এইবসফরে ব্রিটিশ স্কুলের বিরুদ্ধে ভারতীয় স্কুল দল একটি ম্যাচে ২০৩ রান তাড়া করতে গিয়ে শেষ ওভারে পর পর দু বলে দুটি ছয় মেরে নিজের সেঞ্চুরি করেন সুরিন্দর অমরনাথ এবং দলকে জেতালেও তার সাথে রাজা মুখার্জির ৭৫ রানের ইনিংস এবং দুজের জুটিতে ১৪৩ রানের পার্টনারশিপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এই সফরে রাজা মুখার্জি দুটি শতরান সহ বেশ কয়েকটি গুুত্বপূর্ণ ইনিংস ভারতীয় দলকে উপহার দেন। বাংলা স্কুল বা পূর্বাঞ্চলীয় স্কুলের হয়ে রাজা মুখার্জি উইকেট যথেষ্ট দক্ষতার সাথে উইকেট কিপিং করলেও ভারতীয় স্কুল দলের হয়ে তিনি কিপিং করেন নি কারণ নির্বাচকরা তাকে বলেছিলেন উইকেট কিপিং করলে ক্লান্ত হয়ে যাবে যার প্রভাব ব্যাটিং এ পড়তে পারে। নির্বাচকরা রাজা মুখার্জিকে একজন ব্যাটসম্যান হিসাবেই দলে চাইছেন কারণ ব্যাটসম্যান রাজা মুখার্জিকে ভারতীয় স্কুল দলের প্রয়োজন তুল্যমূল্য ভাবে অনেকাংশেই বেশি। ইংল্যান্ড সফর থেকে ফিরে কলকাতা ক্লাব ক্রিকেট প্রথম ডিভিশন ক্লাবের সদস্য রাজা মুখার্জির ১৯৬৭-৬৮ মরশুমে মাত্র ১৭ বছর বয়সে বাংলার হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট অভিষেক। শ্যাম সুন্দর মিত্রর নেতৃত্বাধীন বাংলা দলের হয়ে ১৭ ডিসেম্বর ১৯৬৭ সালে উড়িশ্যার বিরুদ্ধে রবিন মুখার্জির সঙ্গী হিসাবে ইনিংসের গোড়াপত্তন করেই প্রথম উইকেটের জুটিতে রাজা মুখার্জির দৃষ্টিনন্দন ৬৩ রানের ইনিংস সহ ১১২ রানের পার্টনারশিপ করেন। বাংলার হয়ে খেলা চলাকালীন ১৯৬৮-৬৯ মরশুমে আবার ভারতীয় স্কুল দলের হয়ে অস্ট্রেলীয় সফরে অধীনায়কের ভূমিকাও পালন করেন। এই সফরে বাংলা থেকে তিনি ছাড়াও দীপঙ্কর সরকার (যিনি আগের ইংল্যান্ড সফরে চমৎকার বোলিং করে ৬৫টি উইকেট দখল করেন ) এবং রবি ব্যানার্জী ছিলেন এছড়াও ব্রিজেশ প্যাটেল, মহিন্দার অমরনাথ, বুধি কুন্দরান, কার্সেন ঘাউড়ি মতো পরবর্তী কালের ভারতীয় টেস্ট তারকারা ছিলেন। ক্যানেবেরাতে অস্ট্রেলীয় স্কুল বয়েজ দলের বিরুদ্ধে দ্বিতীয় ইনিংসে বোলিং সহায়ক উইকেটে তিনি ৫৩ রান করে দলকে জয়ের লক্ষ্যে পৌঁছে দিয়েছিলেন। রাজা মুখার্জির ব্যাটিং দেখে ইয়াণ চ্যাপেল এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে নেটে যখন রাজা মুখার্জি ব্যাটিং করতেন উনি নেটের পেছনে দাঁড়িয়ে দেখেছিলেন। কলকাতা ময়দানেও রাজা মুখার্জির বহু ময়দান খ্যাত ক্রিকেটাররাও মন্ত্রমুগ্ধের মতো ওনার ব্যাটিং উপভোগ করতেন। এই সফরে রাজা মুখার্জি সহ ভারতীয় দলের অনেকেই ভালো পারফর্ম করার সুবাদে ভারতীয় স্কুল দল অনবদ্য পারফর্ম করে অস্ট্রেলীয়দের প্রশংসা আদায় করেন। সেই সময় ভারতীয় ক্রিকেট মহলে স্কুল ক্রিকেটের গুরুত্ব ছিল অনেক বেশি কিন্তু রঞ্জি ট্রফি আর বাংলা বা পূর্বাঞ্চলীয় এমনকি ভারতীয় স্কুলের খেলা এক সময় হতো তাই বাংলা দলের রাজা মুখার্জীর মতো জুনিওর ক্রিকেটারদের ভারতীয়, বাংলার বা পূর্বাঞ্চলীয় স্কুল দলের হয়ে খেলতে বলা হত কারণ বাংলা নির্বাচক মন্ডলী জানতেন স্কুলের খেলার পর অভিজ্ঞতাও হবে এবং আগামীদিনে বাংলা দলের হয়ে খেলতে যা তাদের সাহায্য করবে। রাজা মুখার্জি বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেট আইকন সুনীল গাভাস্কারের বিরুদ্ধেও আঞ্চলিক (জোনাল ) স্কুল প্রতিযোগিতায় বেশ কয়েকবার মুখোমুখি হয়েছিলেন। ১৯৭৫-৭৬ সালে রাজা মুখার্জি কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় দলের হয়ে রহিংটন বেরিয়া প্রতিযোগিতায় যথেষ্ট সুনামের সাথেই খেলেছিলেন। রাজা মুখার্জি ১৯৬৭-৬৮ মরশুম থেকে শুরু করে ১৯৭৮-৭৯ মরশুম পর্যন্ত প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলেন বাংলা, রেলওয়ে (১৯৭০-৭১) এবং পূর্বাঞ্চল দলের হয়ে । ১৯৭৫-৭৬ মরশুমে রাজা মুখার্জি ইডেনে আসামের বিরুদ্ধে তিন নম্বরে ব্যাট করতে নেমে ওপেনার পলাশ নন্দীর সাথে দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে অবিচ্ছেদ্য ৩১৭ রান করেন। পলাশ নন্দী ২০৫ রানে এবং রাজা মুখার্জি ১২৪ রানে অপরাজিত থাকেন পরের ম্যাচে রাউরকেল্লাতে উড়িস্যার বিরুদ্ধে ওপেন করে নিজের জীবনের সেরা স্কোর ১৫৪ রান করেন রাজা মুখার্জি এবং দ্বিতীয় উইকেটের জুটিতে প্রকাশ পোদ্দারকে(১২৬ রান) সঙ্গী করে ২৫৮ রান যোগ করেন। পরের ম্যাচে পাটনায় বিহারের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ৫ রানে আউট হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে ৮৭ রানে অপরাজিত থেকে বাংলাকে গুরুত্বপূর্ণ পাঁচ পয়েন্ট পেতে সাহায্য করেন। সেমিফাইনালে বোম্বে (অধুনা মুম্বাই) এর বিরূদ্ধে ধৈর্য্যশীল ৪৮ রানের ইনিংস তার ব্যাট থেকে বেড়িয়ে আসে। এই মরশুমে ধারাবাহিক ভাবে রান করলেও আত্যশ্চর্য ভাবে ১৯৭৬ ভারত সফররত ইংল্যান্ড দল (এম.সি.সি) বিরুদ্ধে পূর্বাঞ্চল দলে তিনি কোনো এক অজ্ঞাত কারণে ডাক পাননি তবে বর্তমান যুগের মতো এত মিডিয়ার কভারেজ বা সোশ্যাল মিডিয়ার রমরমা সেই সময় থাকতো তাহলে এই অজ্ঞাত কারণ নিয়ে বাংলার ক্রিকেট মহলে সরগরম নিশ্চিত ছিল।তিনি ১৯৬৯-৭০ সালে ভারত সফরে বিল লরির নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলীয়া দলের বিপক্ষে গৌহাটিতে পূর্বাঞ্চল দলের হয়ে খেলেন এবং আল্যান কানোলি , এরিক ফ্রিম্যান, লরি ম্যায়নে এর মত জোড়ে বোলার এবং জন গ্লিসনের মতো লেগ ব্রেক বোলারের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ব্যর্থ হলেও দ্বিতীয় ইনিংসে দলের সর্বোচ্চ ৩৩ রান করেন।
প্রায় একদশকের বেশি সময় ধরে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট খেলা ডান হাত ওপেনার রাজা মুখার্জি ৩৪টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে চারটি শতরান সহ ১৫২৬ রান করেন যার মধ্যে সর্বোচ্চ রান অপরাজিত ১৫৪ রান। ৩টি লিস্ট – এ ম্যাচও তিনি খেলেন। বাংলার হয়ে রঞ্জি ট্রফিতে ৪৯.৮২ গড়ে তিনি রান করেন। বাংলার ক্রিকেটের দুর্ভাগ্য যার ব্যাটিং প্রতিভা ক্রিকেট জগতের বহু মানুষকে মুগ্ধ করত তিনি মাত্র ১৮ টি ম্যাচ খেলার সুযোগ পান বাংলার হয়ে।
বিভাস মল্লিক (কেসিসি)- বিহারের গোপালগঞ্জ জেলার এক গ্রামে পাঁচ বোন(এক বোন ছোটো বেলায় মারা যান) দুই ভাইয়ের মধ্যে সর্ব কনিষ্ঠ মুকেশ কুমারের ছোটো থেকেই ক্রিকেট খেলা ছিল সবচেয়ে প্রিয় কিন্তু পেশায় ট্যাক্সি চালক পিতা কাশী নাথ সিং এর পক্ষে ছেলেকে ভালো কোনো কোচিং সেন্টারে প্রশিক্ষণ দেওয়ার ক্ষমতা ছিলনা। মুকেশ এবং তার ভাই বোনরা বিহারে থাকলেও মুকেশের বাবা প্রায় চল্লিশ বছর কলকাতাতেই থাকতেন উপার্জনের তাগিদে। মৌলালির নিকটস্থ তালতলা বাজারে ভাড়ার ঘরে।
মুকেশ বিহারে বন্ধুদের সাথে টেনিস বলে বিভিন্ন জায়গাতে ক্রিকেট খেলতে যেত পড়াশোনা থেকেও টেনিস বল ক্রিকেট ছিল তার কাছে বেশি আগ্রহের কিন্তু বাবা চাইতেন ছেলে একটু লেখা পড়া শিখে দাদার মত যেকোন একটা চাকরি করুক কলকাতায়।
২০০৩ সাল থেকে মুকেশের কলকাতাতে যাওয়া আসার সূত্রে বেশ কিছু বন্ধুবান্ধব কলকাতাতে হয়েছিল তাদের কাছেই কলকাতার ক্রিকেট গল্প শুনে বাংলার ক্রিকেট সম্পর্কে ধীরে ধীরে মুকেশের আগ্রহের সূত্রপাত তার পাকাপাকি ভাবে যখন ২০১১ সালে কলকাতা চলে আসলে এখনকার বন্ধুদের মাধ্যমে জানতে পারেন কালীঘাট ক্লাবের কথা এবং একদিন কালীঘাট ক্লাবে সরাসরি হাজির হোন লাল বলের ক্রিকেট খেলার উদ্দেশ্যে এর আগে মুকেশের লাল বলের ক্রিকেটের কোনো অভিজ্ঞতা ছিল না। কালীঘাট কোচিং ক্যাম্পের কোচ কলকাতা ময়দানের প্রাক্তন ক্রিকেটার বিরেন্দ্রার সিংয়ের কাছে লাল বলের ক্রিকেটের হাতেখড়ি মুকেশের এবং মুকেশের মধ্যে আগামী দিনে একজন ভালো বোলার হয়ে ওঠার উপকরণ মজুত আছে সেটা কোচ বুঝতে পারেন কিন্তু এর মাঝেই মুকেশ কলকাতা ক্লাব ক্রিকেটে খেলার জন্য মরিয়া চেষ্টা চালাতে থাকেন। একটা সুযোগ এসেও ছিল কালীঘাট ক্লাবে কিন্তু কলকাতার ক্রিকেটে তখন একদম নবাগত মুকেশকে এই ক্লাবের এক মালি বোঝান প্রথমেই কালীঘাটের মত বড়ো ক্লাবে সই করলে প্রথম একাদশে সুযোগ পাবে না শুধু জল বইতে হবে কি বড়ো জোর নেট বোলার হিসাবেই ক্রিকেট জীবনের স্বপ্নের ইতি হতে পারে। সেই মালির কথা মুকেশের খুব যুক্তিপূর্ণ মনে হওয়ায় মনস্থির করে একদম শূন্য থেকে শুরু করবে এবং সংকল্প নেন একদিন বাংলার হয়ে খেলার। মুকেশের এই রকম ক্রিকেটের প্রতি টান দেখে একপ্রকার বাধ্য হয়ে তার বাবা কালীঘাট ক্লাবের কোচিং ক্যাম্পে পাঠান এই ভেবে যে ওখানে প্রচুর খাটাবে আর সেই ভয়ে তার ছেলে ক্রিকেট ছেড়ে কাজে কর্মে মন দেবে কিন্তু মুকেশের ভেতর যে ক্রিকেট ঘিরে স্বপ্ন সংকল্প ছিল তা ঘুণাক্ষরেও বাবা টের পান নি। ২০১১-১২ মরশুমে কলকাতার দ্বিতীয় ডিভিশন ক্লাব বাণী নিকেতনের হয়ে মুকেশের কলকাতা ক্লাব ক্রিকেটে যাত্রা শুরু এবং ঘটনা চক্রে প্রথম ম্যাচেই কালীঘাট মাঠেই নবাগত মুকেশ সেই সময় ইন- আউট সুইং টুইং না বুঝলেও নিয়ন্ত্রিত লাইন এবং পেসের সাহায্যে ছয় উইকেট তুলে নেন । বাণী নিকেতনের হয়ে ৪ টে ম্যাচে ১২ উইকেট পান মুকেশ এবং পরের মরশুমে প্রথম ডিভিশন ক্লাব শিবপুর ইনস্টিটিউট ক্লাবের হয়ে খেলার মাঝেই এসে যায় একটা সুযোগ। মুকেশ খবর পায় সেই সময় সদ্য শুরু হওয়া ভিশন ২০-২০ র জন্য ট্রায়াল ডাকা হয়েছে এক মুহুর্ত সময় নষ্ট না করে সেই ট্রায়ালে যোগ দিয়েই প্রধান কোচ বিশ্বের অন্যতম সেরা পেস বোলার পাকিস্থানের ওয়াকার ইউনিসের নজরে আসে আজকের বাংলার পেস বোলিং বিভাগের অন্যতম স্তম্ভ মুকেশ কুমার। এই ট্রায়ালে বাংলার প্রাক্তন দুই ক্রিকেটার জয়দীপ মুখার্জি এবং রনদেব বোসের কাছে নানা পরামর্শ পান মুকেশ ।
ভিশন ২০ -২০ ক্যাম্পে থাকাকালীন রণদেব বোসের সাথে টাউন ক্লাবের কর্মকর্তার কথা হয় মুকেশকে টাউন ক্লাবের হয়ে খেলার জন্য কারণ টাউন ক্লাবে খেললে মুকেশ আরো ভালো করবে বলেও তাদের বিশ্বাস ছিল এবং রনদেবের পরামর্শ মতো মুকেশ টাউন ক্লাবের হয়ে ধারাবাহিক পারফরমেন্স ২০১৫-১৬ সালে রোহোতকে হরিয়ানার বিরুদ্ধে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে অভিষেকেই সুনিয়ন্ত্রিত লাইন লেংথ বজায় রেখে প্রথম ইনিংসেই ৫৩ রানে ৪ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাকে প্রথম ইনিংসে লিড পেতে সাহায্য করেন। এই মরহুমের বিজয় হাজারে এবং সৈয়দ মুস্তাক আলী প্রতিযোগিতায় বাংলার হয়ে অভিষেক হয় মুকেশের তারপর থেকে নিজের দক্ষতায় বাংলার বোলিং এর গুরুত্বপূর্ণ সদস্য পরিণত হাওয়া মুকেশ কুমার গত মরশুমে রঞ্জি ফাইনালে ওঠার নেপথ্যে তার অবদান অনস্বীকার্য। সেমি ফাইনালে ভারতীয় ক্রিকেটের শক্তিশালী দল কর্ণাটকের বিরুদ্ধে প্রথম ইনিংসে ঈশান পড়েল পাঁচ উইকেট নিলেও দ্বিতীয় ইনিংসে মুকেশ কুমার ৬১ রানে ৬ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলার ফাইনালে ওঠার পথ প্রশস্ত করেন।
এখন পর্যন্ত ২২ টি প্রথম শ্রেণীর ম্যাচে ৮০ উইকেটের মালিক মুকেশ কুমারকে ঘিরে বাংলার ক্রিকেট প্রেমীরা ভীষণ আশাবাদী আগামীদিনে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়ার ব্যাপারে। বর্তমানে এ.জি বেঙ্গলে কর্মরত মুকেশের পিতা প্রাথমিক ভাবে ছেলের ক্রিকেট নিয়ে উৎসাহ না দেখলেও পরবর্তীকালে তিনি ছোটো ছেলেকে উৎসাহিত করতেন ভালো খেলতে এবং তিনি চাইতেন ছেলে একদিন জাতীয় দলের হয়ে প্রতিনিধিত্ব করবে কিন্তু গত বছর পিতা কাশীনাথ সিং এর আকস্মিক প্রয়াণ ঘটলেও মুকেশ লক্ষ্য কঠোর পরিশ্রম করে আগামীদিনে জাতীয় দলে জায়গা করে নিয়ে পিতার ইচ্ছা পূরণ করতে।
বাংলার তারকা বোলার মুকেশ কুমারবাবা- কাশীনাথ সিং এবং মা – মালতি দেবীবাংলা দলের কোচ অরুণ লালের সাথে মুকেশ বোলিং কোচ – রণদেব বোসের সাথে মুকেশ কুমার।
বিভাস মল্লিক- ডান হাতি ফাস্ট বোলার জেমস মাইকেল অ্যান্ডারসন বা জিমি অ্যান্ডারসন টেস্ট ক্রিকেটের ৬০০ ক্লাবের চতুর্থ সদস্য হলেন গত ২৬ শে আগস্ট ২০২০ তারিখে পাকিস্তানের অধিনায়ক আজহার আলীর উইকেট দখল করে। এই ক্লাবের বাকি তিন সদস্য হলেন টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী শ্রীলঙ্কার মুরলিধরন (৮০০ উইকেট) অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্ণে (৭০৮ উইকেট ) এবং ভারতের অনিল কুম্বলে(৬১৯ উইকেট) কিন্তু প্রথম ফাস্ট বোলার হিসেবে জিমি ৬০০ ক্লাবের মালিক হলেন।
২০০৩ সালে ২২শে মে লর্ডসে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ২০ বছর বয়সী অ্যান্ডারসনের টেস্ট অভিষেক আর প্রথম টেস্ট ইনিংসেই ৭৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি ইংল্যান্ড নির্বাচকদের বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। জিমি অ্যান্ডারসন ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টি ক্লাবের হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট শুরু করেন এবং ১৪ই মে ২০০৩ সালে ২০ বছর ২৮৮দিন বয়সী জিমি সর্ব কনিষ্ঠ ল্যাঙ্কাশায়ার ক্রিকেটার হিসেবে পর পর তিন বলে বিপক্ষের ব্যাটসম্যান ড্যারেন রবিনসন, নাসির হুসেন এবং উইল জেফারসনের উইকেট হ্যাটট্রিক করেন। জিমি অ্যান্ডারসন ডান হাতে ফাস্ট বোলিং করলেও ব্যাটসম্যান জিমি বাঁহাতি সবাই জানি কিন্তু তিনি ছোটবেলায় বাঁহাতি স্পিনার ছিলেন এবং পরবর্তী কালে নেটেও বাঁহাতি স্পিনার হিসাবে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের বল করতেন । কিংসমিডে এক প্রদর্শনী ম্যাচে অ্যান্ডারসন তার বাঁহাতের স্পিনে একদা ইংল্যান্ডের সতীর্থ ইয়ান বেলকে আউট করেন। অ্যান্ডারসনের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে বাঁহাতি স্পিনার হিসাবে খেলার স্বপ্নও আছে। এখনো পর্যন্ত ১৫৬টি টেস্টে ৬০০ উইকেটের মালিক জেমস অ্যান্ডারসনের বলে সবচেয়ে বেশিবার আউট ড্রেসিং রুমে ফেরত গেছেন অস্ট্রেলিয়ার পিটার সিডল (১১) তারপর মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকর , মাইকালে ক্লার্ক, এবং আজহার আলী প্রত্যেকেই ৯ বার আউট হয়েছেন। অ্যান্ডারসন ৩০ বছর বয়সের পর ইংল্যান্ডের টেস্ট বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় শীর্ষে তিনি ৩০প্লাস বয়সে এখন পর্যন্ত ৩৩২ টি উইকেট নেন এরপর বব উইলিস (৩২৫), ফ্রেড ট্রুম্যান (৩০৭), ডেরেক আন্ডারউড (২৯৭) পান। আর অনূর্ধ্ব ৩০ বয়সে অ্যান্ডারসন টেস্টে ২৬৮ উইকেট নেন তারপরে অফস্পিনার গ্রেম সোয়ান (২৫৫)। ২০০৩ সালে অ্যান্ডারসন প্রথম ইংল্যান্ডের বোলার হিসাবে একদিনের ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পর পর তিন বলে আব্দুর রাজ্জাক, সোয়েব আখতার এবং মোঃ সামি কে আউট করে হ্যাটট্রিক করেন।