টি -২০ ইতিহাসে এই প্রথম একটি ম্যাচের দুই ইনিংসেই শূন্য করে প্রথম “গোল্ডেন ডাক” (টেস্ট ক্রিকেটে কোনো ব্যাটসম্যান দুই ইনিংসে শূন্য রানে আউট হলে গোল্ডেন ডাক বলা হয়) করলেন পাঞ্জাব কিংস ইলেভেন এর বাঁহাতি ব্যাটসম্যান ওয়েস্টিন্ডিজজাত নিকোলাস পুরান।
গতকাল আইপিএলের দ্বিতীয় ম্যাচে দিল্লি ক্যাপিটালের মুখোমুখি হয়েছিল পাঞ্জাব কিংস ইলেভেন। উত্তেজনা পূর্ণ ম্যাচে সুপার ওভারে দিল্লি ক্যাপিটাল পাঞ্জাব কিংসকে পরাজিত করে। প্রথমে ব্যাট করে দিল্লি নির্ধারিত ২০ ওভারে অধিনায়ক শ্রেয়াস আইয়ারের ৩৯(৩২বল) , পন্থের ৩১(২৮ বল) এবং স্টইনিসের মাত্র ২১ বলে ৫৩ রানের ওপর ভর করে ৮ উইকেটে ১৫৭ রানের জবাবে পাঞ্জাব ভারতীয় তারকা ব্যাটসম্যান মায়াঙ্ক আগারওয়ালের ৬০ বলে ৮৯ রানের ইনিংসের সাহায্যে ২০ ওভারে ৮ উইকেটে ১৫৭ রানে শেষ হয়। শেষ ওভারে পাঞ্জাবের জেতার জন্য ১৩ রানের দরকার থাকলে স্টইনিশের প্রথম বলে ছক্কা এবং তারপরের দুই বলে দুরান এবং চার মারলেও চতুর্থ বলে মায়াঙ্ক আউটের পর শেষ দু বলে এক রান করে ব্যর্থ হয় পাঞ্জাব। কিংসের শামি প্রথম ম্যাচেই আইপিএলে তার সেরা বোলিং করেন ৪ ওভারে ১৫ রানে ৩ উইকেট দখল করেন।
দুই ইনিংসেই শূন্য পুরাণের
নিকোলাস পুরান পাঞ্জাবের প্রথম ইনিংসে তিন বল খেলে শূন্য রানে আশ্বিনের বলে বোল্ড হন এবং সুপার ওভারে প্রথম বলেই কাগিসো রাবাডার ইয়র্কারে শূন্য রানে বোল্ড হোন। সুপার ওভারে পাঞ্জাব প্রথমে ব্যাট করে রাবাডার বোলিং এর সামনে মাত্র দু রান করলে জেতার জন্য সুপার ওভারে তিন রানের লক্ষ্য মাত্রা দিল্লি সহজেই অতিক্রম করে প্রথম ম্যাচে জয় লাভ করে । আইপিএলের ইতিহাসে সুপার ওভারে পাঞ্জাবের গতকাল করা ২ রান সুপার ওভারের সর্বনিম্ন স্কোর এর আগে সুপার ওভারে সর্ব নিম্ন স্কোর ছিল ৬ রান। ২০১৫ সালে পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে রাজস্থান রয়্যালের এবং মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে গুজরাট লাইন্সের ২০১৭ আইপিএলে।
আবারও অসাধ্য সাধন করে দেখালেন সৌরভ গাঙ্গুলি আসলে কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখে বরাবরই তার সেরাটা বেরিয়ে আসে এটা নতুন কিছুই নয়। ২০ শে জুন ১৯৯৬ সালে ২৪ বছরের ছিপছিপে বাঙালি যুবক সৌরভের ইংল্যান্ডের লর্ডসের মাঠে টেস্ট যাত্রার শুরুর আগে কেউ ভাবতেই পারেন নি তিনি শুরুতেই অনবদ্য সেঞ্চুরি করে বিশ্ব ক্রিকেটে তাক লাগানো অভিষেক থেকেই তিনি কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা করে অসাধ্য সাধন করে এসেছেন।
বহু বাঁধা পেরিয়েও শুরু হলো আইপিএল ২০২০ বোর্ড সভাপতি সৌরভের নেতৃত্বে
ম্যাচ ফিক্সিং ঘটনাকে কেন্দ্র করে যখন ভারতীয় ক্রিকেটের টলমল অবস্থা সেই রকম এক কঠিন পরিস্থিতে ২০০০ সালে সচিন তেন্ডুলকর নেতৃত্ব থেকে সড়ে দাঁড়ানোর পর সৌরভের কাঁধে দয়িত্ব পরে ভারতীয় দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার। দিশা হারা ভারতীয় দলকে একসূত্রে গাঁথা ছিল যতটাই কঠিন ততটাই অসাধ্য কিন্তু সৌরভ গাঙ্গুলি আবারও সেই চ্যালেঞ্জে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে অভিজ্ঞতা এবং তারুণ্যের সংমিশ্রণে পুরো দলকে একসূত্রে বেঁধে ভারতীয় দলকে রূপান্তরিত করেছিলেন ক্রিকেট বিশ্বের শক্তিশালী দল হিসাবে করেছিলেন সেই অসাধ্য সাধন দুর্ভাগ্য বশত ২০০৩ বিশ্বকাপের ফাইনালে অস্ট্রেলিয়ার কাছে পরাস্ত হলেও সারা বিশ্বকাপে ভারতীয় দল তার নেতৃত্বে যেই ক্রিকেট উপহার দিয়েছিল তা অবশ্যই ভারতীয় ক্রিকেটের ইতিহাসের গৌরবময় অধ্যায়। এছাড়াও অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট ম্যাচ জয় থেকে ইংল্যান্ডে ন্যাট ওয়েস্ট ট্রফি জয় ভারতীয় ক্রিকেটের সোনালী ইতিহাস। এছাড়াও নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে আরো ঐতিহাসিক জয়ের নেতৃত্বে তিনি ছিলেন। ক্রিকেট সৌরভ গাঙ্গুলির পর ভারতীয় ক্রিকেটের সর্বোচ্চ ক্রিকেট নিয়ামক সংস্থা ‘ বিসিসিআই ‘ এর সভাপতি হয়ে করোনা মহামারীর দাপটে প্রায় থমকে যাওয়া পৃথিবীতে আইপিএলের মত বিশ্বে সবচেয়ে বড়ো প্রিমিয়ার লীগ আয়োজন ছিল কঠিন চ্যালেঞ্জের কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট জীবনের প্রথমদিন দিন থেকেই যিনি কঠিন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে সামনে থেকে এই রকম বহু প্রতিকূলতাকে উপেক্ষা করে জয় এনে দিয়েছেন দেশকে তিনি যে এইবারও সফল হবেন সেটাই কাম্য ছিল। গতকাল দুবাইয়ের আবুধাবিতে বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলির নেতৃত্বে সু সংঘঠিত আয়োজনের মধ্যেই শুরু হলো ১৩তম আইপিএলের যাত্রা। উপভোগ্য প্রথম ম্যাচেই ক্রিকেট প্রেমীদের মন জয় করে নিতে সফল আইপিএল। আশা করা যায় কঠিন এই পরিস্থিতির মধ্যেও সুষ্ঠ ভাবে উপভোগ্য এই প্রতিযোগিতা সম্পন্ন হবে।
দুই অধিনায়ক মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের রোহিত শর্মা এবং চেন্নাই সুপার কিংয়ের মহেন্দ্র সিং ধোনি
আজ আবু ধাবির শেখ জায়েদ স্টেডিয়ামে শুরু হতে চলেছে বিশ্বের সবচেয়ে আকর্ষণীয় এবং ধনী টি – ২০ ক্রিকেট প্রতিযোগিতা আইপিএল। আজ উদ্বোধনী ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই শক্তিশালী দল গতবারের চ্যাম্পিয়ন টিম মুম্বাই ইন্ডিয়ানস এবং রানার্স টিম চেন্নাই সুপার কিং। ২০১৯ সালে আইপিএল ফাইনালে রুদ্ধশ্বাস ম্যাচে মাত্র এক রানে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স চেন্নাইকে পরাস্ত করে আইপিএল জয় করে। এখনো পর্যন্ত আইপিএল ইতিহাসে মুম্বাই এবং চেন্নাইয়ের ২৮ বার সাক্ষাতে মুম্বাইয়ের পাল্লা ভারী। তারা ১৭ বার চেন্নাইকে পরাস্ত করলেও ১১ বার পরাজিত হয়। মুম্বাই এবং চেন্নাই দুই দল অবলুপ্ত চ্যাম্পিয়ন্স লীগ টি -২০ ট্রফি দুবার করে জয়লাভ করে। চেন্নাই এবং মুম্বাই দুই দলই আইপিএল ফাইনালে ৪ বার করে খেলেছে। ২০১৪ সালে দুবাইতে আইপিএলের আসরে মুম্বাই এবং চেন্নাই এর আগে একবার মুখোমুখি হয়েছে সেই সাক্ষাৎকারে চেন্নাইয়ের ব্র্যান্ডন ম্যাকুলামের অপরাজিত ৭১ রান এবং মোহিত শর্মার বল হাতে ৪ উইকেটের সাহায্যে চেন্নাই ৭ উইকেটে মুম্বাইয়ের অধিনায়ক রোহিত শর্মার অর্ধশত রান করার সত্বেও পরাস্ত করে।
দুই দলের অভিজ্ঞ টি -২০ ক্রিকেটার চেন্নাইয়ের ডুয়েন ব্রাভো এবং মুম্বাইয়ের কাইরন পোলার্ড
এই দুই দলের অভিজ্ঞ এবং টি -২০ স্পেশালিস্ট ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার মুম্বাইয়ের কাইরন পোলার্ড এবং চেন্নাইয়ের ডুয়েন ব্রাভো বিপক্ষ দলের মাথা ব্যথার কারণ হতে পারে। মুম্বাইয়ের কাইরন পোলার্ড মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স এর বিরুদ্ধে ব্যাট হাতে ১৬৭.৫৪ স্ট্রাইক রেট এবং ৩৪.৫৩ গড়ে ৪৪৯ রান এবং বল হাতে ১২ উইকেট তার ঝুলিতে আছে। অপরদিকে চেন্নাইয়ের ব্রাভো ১৪.৪ স্ট্রাইক রেট এবং ১৯.২৫ গড়ে মুম্বাইয়ের বিরুদ্ধে ২৮ টি উইকেটর সাথে ব্যাট হাতে ২৮৯ রান করেছেন।
আইপিএলে বাংলার ঋদ্ধিমান, শ্রীবৎস, ঈশান,সায়ন, শাহবাজরা বিভিন্ন দল পেলেও এবারের নিলামে মনোজ তিওয়ারির মতো আইপিএলে বিভিন্ন দলের প্রতিনিধিত্ব করা মনোজ তিওয়ারিকে নিলামে কোনো দল না পাওয়াটা বাংলার ক্রিকেট প্রেমীদের যথেষ্ট হতাশ করেছিল ।
ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে শতরানের পর মনোজ
মনোজের মতো অভিজ্ঞ এবং ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেট বছরের পর বছর ধারাবাহিক ভাবে রান করে আসা এবং আইপিএলে প্রায় তিরিশের কাছাকাছি গড়ে ১৬৯৫ রানের মালিকের অবিক্রীত রয়ে যাওয়া অবশ্যই বাংলার ক্রিকেট মহলে হতাশার যদিও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ভারতীয় দলের হয়ে ওয়েষ্টিন্ডিজের বিরুদ্ধে ১০৪* করার পর চোট পান তার পর কাম ব্যাক করেন শ্রীলঙ্কা সফরে এবং দুটি ম্যাচে ২১ ও ৬৫ রান করেন । ভারতীয় দলের হয়ে মনোজের ক্যারিয়ারে চোট সবচেয়ে বড়ো অভিশাপ । ২oo৮ সালের আইপিএলে মনোজের অভিষেকের পর ২০১৮ সাল পর্যন্ত দিল্লি ক্যাপিটাল, পাঞ্জাব কিংস, কলকাতা নাইট রাইডার্স এবং রাইসিং পুনে জয়েন্ট দলের হয়ে আইপিএলে ৯৮টি ম্যাচে ২৮.৭২ গড়ে ১৬৯৫ রান করেছেন।
কেকেআর থাকা কালীন মনোজ তিওয়ারি
চেন্নাইয়ের সুরেশ রায়না দুবাই থেকে চলে আসার পর এটা নিশ্চিত এবারের আইপিএলে তিনি আর খেলবেন না তার মতো একজন অভিজ্ঞ ব্যাটসম্যান এবং দলের প্রয়োজনে স্পিন বোলিংটাও করতে পারতেন তার স্থলাভিসিক্ত হাওয়ার জন্য সবচেয়ে যোগ্য হতে পারতেন বাংলার মনোজ তিওয়ারি। মনোজের ব্যাটিং এর সাথে দরকারে দুবাইয়ের স্পিন সহায়ক উইকেটে প্রয়োজনে মনোজের স্পিন বোলিং টাও দলের কাজে লাগানো যেত। বর্তমানে সবদিক থেকে বিচার করলে সুরেশ রায়নার পরিবর্ত হিসাবে মনোজ তিওয়ারি সবার চেয়ে বেশ কয়েক ধাপ এগিয়ে এটা বোঝার জন্য রকেট সাইন্স লাগে না বলেই আমাদের মনে হয়। আমরা কেসিসির প্রত্যেকেই আশা করে ছিলাম একশো শতাংশ যোগ্য হিসাবেই মনোজ তিওয়ারি আইপিএলে ফিরে আসবে।
রয়েল চ্যালেঞ্জ ব্যাঙ্গালুরু হঠাৎ করে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া সাইট থেকে সব কন্টেন্ট মুছে দিতে সকল সমর্থকের মনে হয়েছিল হয়তো দলের নেতৃত্ব বা নামের কোনো পরিবর্তন আনতে চলেছে কিন্তু বাস্তবে যখন আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে ফিরে এলো দেখা গেলো শুধু লোগো পরিবর্তনের জন্য করা হয়েছিল। আইপিএলের গত ১২টি পর্বের ব্যর্থতা সমর্থকদের যে হতাশা তৈরি করেছে তা এই রকম উপরিগত পরিবর্তন করে সমর্থকদের উৎসাহিত করতে ব্যর্থ কারণ সফল হতে গেলে দলকে বাইশ গজে পারফর্ম করতে হবে পূরণ করতে হবে এই বাইশ গজের ঘাটতি গুলো। বিগত আইপিএল গুলোতে ব্যাঙ্গালুরুর ব্যর্থতার কারণ যদি মাত্রারিক্ত বিরাট কোহলি বা এবি দেভলিয়ার্স নির্ভরতা হয় তাহলে ‘ ডেথ ওভারে ‘ স্পেশালিস্ট বোলারের অভাব অন্যতম বৃহৎ কারণ। এই বারেও যদি ব্যাঙ্গালুরুর স্কোয়াড দেখি তাহলে দেখব এই ঘাটতি খুব বেশি পূরণ করতে সক্ষম তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে। ব্যাটিং টপ অর্ডারে বিরাট কোহলি এবং এবি ডিভলিয়ার্স এর সাথে যুক্ত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণাত্বক ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চ। কোভিড – ১৯ এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি -২০ সিরিজে তিনি ম্যান অফ দা সিরিজ হাওয়া ছাড়াও বিগ ব্যাস প্রতিযোগিতায় প্রায় ১৪০ স্ট্রাইক রেট সহ ৩৬৩ রান করেন। তার এই ছন্দ থাকা অবশ্যই ব্যাঙ্গালুরুর কাছে স্বস্তি দায়ক। ওপেনিং এ ফিঞ্চের সাথে তরুণ প্রতিশ্রুতিমান দক্ষিণী ব্যাটসম্যান যাকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেট মহল খুবই আশাপ্রদ আগামীদিনে ভারতীয় দলের সম্পদ হাওয়ার ব্যাপারে সেই দেবদত্ত পারিক্কর অথবা অভিজ্ঞ উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান পার্থিব প্যাটেল দুজনের একজন সঙ্গী হতে পারেন। মিডিল অর্ডার বা লোওয়ার মিডিল অর্ডারে ব্যাঙ্গালুরুর সমস্যা আছে তাদের দলে অলরাউন্ডার সাউথ আফ্রিকান ক্রিস মরিস , ভারতীয় শুভম দুবে, কিউই কালীন দি গ্র্যান্ডহোম বা অস্ট্রেলিয়ার মার্কোস স্টইনিস থাকলেও তারা আন্দ্রে রাসেল , হার্দিক পান্ডিয়া বা কাইরন পোলার্ডের মত ধারাবাহিক বা ম্যাচ উইনার না।
পেস বোলিং বিভাগে দলকে নেতৃত্ব দেবেন একদা বিশ্বের সেরা বোলার সাউথ আফ্রিকার ডেল স্টেইন কিন্তু বর্তমানে ৩৬ বছর বয়শী স্টেইন বহুবার চোট আঘাতে জর্জরিত থাকার পর কতটা নিজের সেরা দিতে পারবে এবং দীর্ঘ আইপিএল মরশুমে দুবাইয়ের মতো গরম এবং আদ্র পরিবেশে তা নিয়ে সংশয় থাকছেই। স্টেইন ছাড়াও ভারতীয় দলের বোলার নবদ্বীপ সাইনি অতীতের চেয়ে এখন অনেকবেশি পরিণত এবং তার গতির সাথে ইয়র্কার দেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা স্বস্তির ব্যাঙ্গালুরুর পক্ষে। মোহাম্মদ সিরাজের গতিও কাজে লাগতে পারে কিন্তু ডেথ ওভারে আঁটোসাঁটো বোলিং আশাব্যঞ্জক ধারাবাহিকতার অভাব আছে এছাড়াও অভিজ্ঞ উমেশ যাদব এবং শ্রীলঙ্কার উসুরু উদনা কে ব্যবহার করতে পারবে ব্যাঙ্গালুরু।
শাহবাজ আহমেদ
এইবারে আইপিএল যেহেতু দুবাইতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাই এখনকার উইকেট বিশেষ করে দিনের দ্বিতীয় ভাগে যখন খেলা হবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্পিনারদের সাহায্য করবে সে ক্ষেত্রে স্পিনারদের ভূমিকা ম্যাচের নির্নায়ক হতেই পারে। ভারতীয় তারকা অভিজ্ঞ এবং ট্রিকি স্পিনার যজুবেন্দ্র চাহালকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং তাকেও স্পিন বিভাগে নেতৃত্ব দিতে হবে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। এছাড়াও ডান হাতি অফস্পিনার ব্যাটসম্যান ওয়াশিংটন সুন্দর দলের সাথে লড়াই মূলত বাঁহাতি স্পিনার অলরাউন্ডার পবন নেগী আর বাংলার শাহবাজ আহমেদের। তবে গতরশুমে ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে বাংলার হয়ে শাহবাজ যে পারফর্ম করেছে তাই দেখেই ফ্র্যাঞ্চাইজির পছন্দের তালিকাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন । শাহবাজ আহমেদের আঁটোসাঁটো বোলিং যেমন ‘ ডেথ ওভারে ‘ কাজে আসতে পারে তেমনি যে কোনো পরিস্থিতি অনুযায়ী লোয়ার অর্ডারে কাজে লাগবেই। চাপের মুখে দাঁতে দাঁতে চেপে লড়াই করার ক্ষমতা ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেট গত মরশুমে ক্রিকেট মহল প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেয়েছে। এছাড়াও দূর্দান্ত ফিল্ডিং পারদর্শিতা শাহবাজ আহমেদের পক্ষেই যাবে। ভারতীয় তথা চেন্নাই এর উপযোগী ক্রিকেটার রবীন্দ্র জাদেজার মতই শাহবাজ কিন্তু ব্যাঙ্গালুরুর উপযোগী ক্রিকেটার হয়ে উঠলে দলের ভারসাম্য অনেকটাই বেড়ে যাবে। এখন পর্যন্ত প্র্যাকটিস ম্যাচ এবং নেটে শাহবাজ আহমেদের উপর টিম ম্যানেজমেন্ট যথেষ্ট আশাবাদী।
১২ বছর আগে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট লীগ শুরু হওয়ার উদ্বোধনী ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্র্যান্ডন ম্যাকুলাম রয়েল চ্যালেঞ্জ ব্যাঙ্গালুরুর বিরুদ্ধে মাত্র ৭৩ বলে ১৫৮ রানের নির্মম ইনিংস ক্রিকেট বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছিলেন আইপিএলের মানদন্ড আগামীদিনে কি হতে চলেছে। সেই বার কলকাতা নাইট রাইডার্স চ্যাম্পিয়ন না হতে পারলেও ২০১২ এবং ২০১৪ সালে গৌতম গম্ভীরের নেতৃত্বে কলকাতা নাইট রাইডার্স আইপিএল জয় করে। ২০২০ সালে কেকেআর ক্রিকেটার ম্যাকুল্যাম নয় কোচ ম্যাকুলামের অধীনে আইপিএল ট্রফির অন্যতম সম্ভাব্য দাবিদার হিসাবেই শুরু করবে তাই এবার কেকেআরের ক্রিকেটারদের মেজাজ বাইশ গজে তুলনামূলক ভাবে অনেক বেশি আক্রমণাত্বক থাকবে আশা করাই যায়। প্রাথমিক ভাবে কেকেআর টিম ম্যানেজমেন্টকে সঠিক ভারতীয় ক্রিকেটারদের বেছে নিতে হবে যদিও এই ব্যাপারে কেকেআর টিমে শুভনাম গিল এবং নীতিশ রানার মতো প্রতিশ্রুতিমান এবং বড়ো মঞ্চে মেলে ধরার মতো ক্রিকেটার আছে এর সাথে এই বার যোগ হয়েছে মুম্বাই এর মত ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেটের শক্তিশালী দলের হয়ে ধারাবাহিক ভাবে পারফর্মার অল রাউন্ডার সিধেশ লাড। গত চার বছর আইপিএলে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স দলে থাকলেও তিনি একটি মাত্র ম্যাচ খেলার সুযোগ পান তাই এবার কেকেআরের হয়ে আইপিএলে পারফর্ম করতে মুখিয়ে থাকবেন।
অধিনায়ক দীনেশ কার্তিককে দলকে সামনে থেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে
অধিনায়ক দীনেশ কার্তিক আইপিএলের অন্যতম অভিজ্ঞ ক্রিকেটার তাকে দলের ব্যাটিং বিভাগে প্রয়োজনে শিট অ্যাংকর এবং ফিনিশার দ্বৈত ভূমিকা পালন করতে হবে সাথে উইকেট পেছন থেকে দলকে যে কোনো পরিস্থিতে দলকে চাঙ্গা রাখার দ্বায়িত্ব নিতে হবে।
পেস বোলিংকে নেতৃত্ব এবং জুনিওর পেসারদের মেন্টরের ভূমিকা নিতে হবে প্যাট কামিন্স কে।
কেকেআরের পেস বোলিং বিভাগকে নেতৃত্ব দেবেন আইসিসি টেস্ট রাঙ্কিং এ একনম্বর থাকা অস্ট্রেলিয়ার প্যাট কামিন্স। এই আইপিএলে সবচেয়ে চর্চিত এবং দামী খেলোয়াড়। ১৫.৫ কোটি টাকায় কেকেআর কামিন্সকে নিলামে কেনে। দিল্লি ডেযার ডেভিলস এর হয়ে ২০১৭ সালে ১২টি ম্যাচে ১৫ টি উইকেট পেলেও পরের সিজনে চোটের কারণে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের হয়ে খেলতে পারেন নি কিন্তু টি – ২০ ক্রিকেটে ১৭.৩ স্ট্রাইক রেট এবং ৬.৭৮ ইকোনমি রেটে বল করা কামিন্স এবারের আইপিএলে কেকেআরের ম্যাচ উইনার দের অন্যতম বলের গতির সাথে ব্যাট হতেও লোয়ার অর্ডারে ঝড়ো ইনিংস খেলায় পারদর্শী কামিন্স। এছাড়াও প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, সন্দীপ ওয়ারিয়র, শিভাম মাভি এবং নাগরকোটি ( চোট মুক্ত হয়ে দুই মরশুম পর ফিরছেন)এর মত তরুণ বোলাররা তাদের পেস এবং সুইং এর সংমিশ্রণে যে কোনো ব্যাটসম্যানকে পরাস্ত করতে পারেন। কেকেআর টিম কয়েকটা আশ্চর্য্যজনক নির্বাচিত ক্রিকেটার দলে নিয়েছেন এবং আগেরবারের প্লেয়াড় রিটেন করেছে। যেমন রিংকু সিং কেকেআরের হয়ে ৯টি ম্যাচে মাত্র ৬৬ রান করলেও তাকে টিমে রেখেছে। তামিলনাড়ুর রহস্যজনক স্পিনার বরুণ চক্রবর্তী যার ২০১৯ সালে পাঞ্জাব কিংসের হয়ে আঙ্গুলে চোট পাওয়ার আগে মাত্র একটি ম্যাচ খেলার সুযোগ হয়েছিল। এই ম্যাচে ৩ ওভারে ৩৫ রানে ১টি উইকেট পান বরুণ তাকে অবাক করা ৪কোটি টাকা দিয়ে কেকেআর নিলামে কেনে। স্পিন বোলিং বিভাগে কেকেআর যথেষ্ট অভিজ্ঞ দল যেহেতু এবারের আইপিএল দুবাইতে হবে তাই এখনকার উইকেটে স্পিন বোলারদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে দেখা যাবে এই বিভাগে বহস্য ময় স্পিনার অভিজ্ঞ সুনীল নারিন স্পিন বিভাগের স্তম্ভ এছাড়াও ভারতীয় দলের সদস্য কুলদীপ যাদব এবং বর্ষীয়ান প্রবীণ তাম্বে দলে আছেন। প্রবীণ তাম্বে সদ্য সমাপ্ত ক্যারিবিয়ান প্রিমিয়ার লিগে দারুন ছন্দে আঁটোসাঁটো বোলিং করে আত্মবিশ্বাসের সাথে আইপিএলে নামতে চলেছে।
ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ জয়ী দলের অধিনায়ক ইয়ান মর্গানকে কেকেআর দলের মিডিল অর্ডারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে হবে। বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান ৬ বছর পর কেকেআর দলে ফিরে আসা মর্গান কিন্তু অতীতের তুলনায় এখন অনেকবেশি ধারাবাহিক এবং আক্রমণাত্বক। চারজন বিদেশিদের মধ্যে কেকেআর দলের প্রথম একাদশে কামিন্স আর মর্গান কার্যত নিয়মিত ।
কেকেআরের দুই গেম চেঙ্গার রাসেল এবং নারিন
বাকি দুই বিদেশি কেকেআরের প্রথম একাদশে থাকবেন ২০১১ সালে আইপিএলে অভিষেককারি এবং দুবার চ্যাম্পিয়ন দলের সদস্য রহস্যময় স্পিনার সুনীল নারিন। নারিন গত কয়েক মরশুমে ব্যাটসম্যান হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলেছেন এবং তার আক্রমণাত্বক ব্যাটিং দক্ষতা কেকেআরের বাড়তি সুবিধা। পাওয়ার প্লে তে নারিনের একটা ঝড়ো ইনিংস ম্যাচে কেকেআরের অ্যাডভান্টেজ পজিশন রেখে দিতে পারে। নারিন আর শুভনাম গিলের ওপেনিং জুটি দলের ভারসাম্য বাড়িয়েছে। এছাড়াও প্রয়োজনে রিজার্ভ বেঞ্চের প্যাডেল স্কুপ মাস্টার টম বন্টম ভালো অপশন হতেই পারে। প্রথম একাদশে আর এক বিদেশি ব্যাট হতে বাইশ গজে তান্ডবকারি আন্দ্রে রাসেল। ১৮৬.৪১ স্ট্রাইক রেটে ব্যাটিং করা রাসেল কেকেআরের হয়ে চার মরশুমে ৯৭টি ছক্কা এবং ১২২টি চার মেরেছেন। রাসেল যেকোনো পরিস্থিতিতে নিজের দিনে ব্যাটিং তাণ্ডবে ম্যাচের রং পাল্টে দিতে পারে। কেকেআর টিমের ‘ এক্স’ ফ্যাক্টর হলেন রাসেল। এই আইপিএলে যদি চোট মুক্ত হয়ে ১৪০ গতিতে বলটাও করতে পারেন তাহলে এইবারে নাইটদের আইপিএল রাইড অনেকদূর যাবে। দুই ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটার নারিন এবং রাসেল কেকেআর টিমের হৃদযন্ত্র। ২০২০ আইপিএলে কেকেআর স্কোয়াড – দীনেশ কার্তিক ( অধিনায়ক), আন্দ্রে রাসেল, নাগরকোটি, সুনীল নারিন, প্যাট কামিন্স, ইয়ান মর্গান, কুলদীপ যাদব, প্রবীণ তাম্বে, নীতিশ রানা, শুভ্নাম গিল, প্রসিদ্ধ কৃষ্ণা, শিভাম মাভী, সন্দীপ ওয়াড়িয়র, রিংকু সিংহ, রাহুল ত্রিপাঠী, বরুণ চক্রবর্তী, লকি ফ্রাগুরসন, টম বন্টন, নিখিল নায়েক, আলি খান, এম. সিদ্ধার্থ।
আসন্ন আইপিএলে বাংলার ক্রিকেট প্রেমীদের প্রিয় বোর্ড প্রেসিডেন্ট সৌরভ গাঙ্গুলি কাছে এই করোনা মহামারীর সত্বেও সুসংঘটিত ভাবে সম্পন্ন করা এক কঠিন চ্যালেঞ্জ যদিও অতীতে নিজের ক্রিকেট ক্যারিয়ারে বহু প্রতিকূলতাকে কাটিয়ে উঠে সেই চ্যালেঞ্জ জিতেছেন তাতে এবারেও তিনি এই চ্যালেঞ্জ অতিক্রম করবেন আশা করা যায় ।
তিন তরুণ বাংলার ক্রিকেটার সায়ন ঘোষ, ঈশান পড়েল এবং শাহবাজ আহমেদ।
বাংলার তরুণ এক ঝাঁক ক্রিকেটারদের কাছেও এবার চ্যালেঞ্জ এবারের আইপিএল । তরুণ ঈশান পড়েল, শাহবাজ আহমেদ, সায়ন ঘোষ এবং বিশ্ব সেরা ভারতীয় টেস্ট দলের উইকেট কিপার ঋদ্ধিমান সাহা , আইপিএল খেলার অভিজ্ঞতা সম্পন্ন শ্রীবৎস গোস্বামীরাও প্রস্তুতির তুঙ্গে আইপিএলে নিজেদের সেরাটা দিয়ে জাতীয় দলের নির্বাচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে। এবারে আইপিএলে যেমন বাংলার ঈশান পড়েল , শাহবাজ আহমেদের অভিষেকের উজ্জল সম্ভাবনা আছে তেমনি লাসিথ মালিঙ্গা ঘরানার বোলার সায়ান ঘোষ গত দুই আইপিএলের তুলনায় পাঞ্জাব কিংসের নেটে দুরন্ত বল করে অধিনায়ক কে. এল. রাহুল সহ টিম ম্যানেজমেন্টর নজর করেছেন। কে. এল.রাহুলের সায়নের বোলিং এত পছন্দ হয়েছে তিনি নেটে ব্যাট করতে গেলেই সায়নকে বল করতে বলেন।
প্রাক্তন দুই তারকা ক্রিকেটার দীপ দাসগুপ্ত এবং লক্ষ্মী রতন শুক্লা
এছাড়াও বাংলার ক্রিকেট প্রেমীদের জন্য সুখবর এই প্রথম স্টার স্পোর্টসে আইপিএলের সম্প্রচারের বাংলা ধারাবিবরণী দিতে দেখা যাবে ভারতীয় তথা বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেট তারকা বর্তমান রাজ্যের মন্ত্রী লক্ষ্মী রতন শুক্লা। এই প্রথম তিনি ধারাবিবরণী দেবেন সঙ্গে থাকবেন প্রাক্তন ভারতীয় দলের খেলোয়াড় এবং বাংলার তারকা খেলোয়াড় শরদিন্দু মুখার্জি এবং মনোজ তিওয়ারি। এছাড়াও আরো এক প্রাক্তন টেস্ট ক্রিকেটার এবং বাংলার তারকা ক্রিকেটার দীপ দাসগুপ্ত দুবাই থেকে সরাসরি স্টারস্পোর্টসের ধারাবিবরণী দেবেন এবং আইপিএল নিয়ে নানা রকম পর্যালোচনা করবেন। দীপ দাসগুপ্ত বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম সেরা ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার দের অন্যতম। আগামী ১৬ই সেপ্টেম্বর ২০২০ সন্ধ্যা ৭টায় দুবাই থেকে সরাসরি আইপিএলের হালহকিকত নিয়ে ” কলকাতা ক্লাব ক্রিকেটের ” লাইভ অনুষ্ঠানে হাজির থাকবেন সঙ্গে বাংলার প্রাক্তন ক্রিকেটার এবং বর্তমান নির্বাচক শুভময় দাসকে নিয়ে।
১৯৯৪ সাল থেকে ১৯৯৮ সাল পর্যন্ত দক্ষিণ আফ্রিকা ক্রিকেট দলের কোচ বব উলমার এবং অধিনায়ক হ্যান্সি ক্রনিয়া থাকাকালীন দক্ষিণ আফ্রিকা দলের স্ট্রেংথ এবং কন্ডিশনিং কোচ ছিলেন প্যাডি আপটন। এরপর ২০০৮ সালে গ্যারি কার্স্টেন ভারতীয় কোচ থাকাকালীন তিনি প্যাডি আপটনকে মেন্টাল কন্ডিশনিং এবং স্ট্রাটিজিক লিডারশিপ কোচ হিসেবে ভারতীয় দলের যুক্ত করেন।
২০১৩ সাল থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত পাঁচটি বিভিন্ন দলের হয়ে ১২টি পেশাদার টি -২০ প্রতিযোগিতায় তিনি মুখ্য কোচের ভূমিকা পালন করেন।
আইপিএলে পুনে ওয়ারিয়র্স , রাজস্থান রয়েলস, দিল্লি ডেয়ার ডেভিলস মতো দলে কোচের দায়িত্ব পালন করেন।
সমস্ত তরুণ ক্রিকেটারদের উদ্দেশ্য বিজপন্ডিত চ্যানেলে তিনি যা বলেলেন ভিডিও তে দেখুন
১৯৯৩ অ্যাসেজ জয়ের পর ওয়ার্নের সাথে অ্যালেন বর্ডার । ছবি সৌজন্য – ফক্স স্পোর্টস।
১৯৮৯ ইংল্যান্ডে ৪-০ ব্যবধানে ১৯৯০-৯১ সালে অস্ট্রেলিয়াতে ৩-০ ব্যাবধানে সিরিজে পরাস্ত করার পর ইংল্যান্ডের মাটিতেই ৪-০ ব্যাবধানে হারিয়ে অ্যালান বর্ডারের নেতৃত্বাধীন অস্ট্রেলিয়া টিম পর পর তিন বার অ্যাসেজ সিরিজ জয় লাভ করে তার মধ্যে দুবার ইংল্যান্ডের মাটিতে হারান। ১৯৯৩ এর অ্যাসেজ শুরুর আগে ইংল্যান্ড টিম মরিয়া ছিল যেকোনো মূল্যে তারা অ্যাসেজ উদ্ধার করতে কিন্তু তৎকালীন এক ২৩ বছরের মাত্র ১২টি টেস্ট খেলা( এই সিরিজের আগে ১৯৯২ সালে সিডনি তে ভারতীয় দলের বিরুদ্ধে টেস্ট অভিশকেকারি শ্যেন ওয়ার্ন ১২ টি টেস্ট খেলেছিলেন) অনভিজ্ঞ লেগ স্পিনার শ্যেন ওয়ার্ন। ৬টি টেস্টে ৩৪ উইকেট নিয়ে ধরাশায়ী করেছিলেন ইংল্যান্ডকে। এই সিরিজেই ওয়ার্নের হাত থেকে বেরিয়ে এসেছিল ‘ শতাব্দীর সেরা বল ‘ ।
” শতাব্দীর সেরা বল” ছবি সৌজন্য – ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।
১৯৯৩ এই সিরিজ শুরু হওয়ার আগে অধিনায়ক বর্ডার শ্যেন ওয়ার্ণের বোলিং এর দক্ষতা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল ছিলেন। ইয়াং ওয়ার্নের ওপর প্রবল আস্থা ছিল ইংল্যান্ড দল যাতে কোনো ভাবে ওয়ার্নের ম্যাজিক সম্পর্কে জানতে না পারে তাই যথা সম্ভব তাকে লুকিয়ে রাখতেন ( ট্যুর ম্যাচে কম বল করানো) । একটি ট্যুর ম্যাচে ইংল্যান্ডের গ্ৰেম হিক যিনি ভীষণ ভালো স্পিন খেলতেন তার বিরুদ্ধে ওয়ার্ন বল করলে হিক খুব সহজেই তাকে খেলেছিলেন এবং স্টেপ আউট করে বাউন্ডারি এমনকি ওভার বাউন্ডারি হাঁকছেন দেখে হতাশ ওয়ার্ন মরিয়ে হয়ে ওঠে তাকে আউট করতে সেই সেটা বুঝে যেতেই সঙ্গে সঙ্গে অধিনায়ক বর্ডার ওয়ার্নেকে বলেন ” তুমি কোনো ভাবেই নিজের ট্রিক দেখাবে না । শুধু নিজের ছন্দটা ঠিক করে নাও গ্রেমি যত খুশি মারুক কোনো ব্যাপার না ও তোমায় একদম সাদা মাটা বোলার ভাবুক যাতে টেস্টে তোমায় হালকা ভাবে নেয়”।অনভিজ্ঞ ওয়ার্ন রাগ চেপে অধিনায়কের কথা মত নিজের ছন্দে মন দেন। সিরিজের শেষে ওয়ার্ন বুঝতে পারেন বর্ডার কেন সেদিন তাকে এই কথা গুলো বলেছিলেন। সিরিজে ওয়ার্ন ৩৪ উইকেট পেলেও গ্রেম হিককে একবারও আউট করতে পারেন নি।
প্রথম টেস্টের ইংল্যান্ডের প্রথম ইনিংসে স্পিন বোলিং খেলায় পারদর্শী অভিজ্ঞ মাইক গ্যাটিংকে তার প্রথম ওভারেই ম্যাজিক বলে” শতাব্দীর সেরা” বোল্ড করেন।
ওয়ার্নের ম্যাজিক বলে আউট হওয়ার পর গ্যাটিং হতবাক
অধিনায়ক বর্ডার মাঠে কিছুই বুঝতে পারেন নি তিনি গ্যাটিংয়ের দ্রুত প্যাভিলিয়নে ফেরত যাওয়ায় আনন্দিত হয়েছিলেন এবং গ্যাটিংয়ের আউটের পর টিম হার্ডেলে ওয়ার্নে তাকে বলেন ” এবি বলটা কিন্তু স্পেশাল ডেলিভারি ছিল”। পরে যখন টিভিতে বর্ডার বলটার রিপ্লে দেখেন তার অজান্তেই বিস্ময়ে তার মুখ থেকে ” ওয়াও” শব্দ বেরিয়ে এসেছিলো এবং তিনি বার বার ম্যাজিক বলের রিপ্লে দেখেছিলেন। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১০০১টি উইকেটের( টেস্টে ৭০৮ এবং ওয়ানডে তে ২৯৩ উইকেট) মালিক স্পিনের জাদুকর শ্যেন ওয়ার্নের আজ ৫১ তম জন্মদিন।
সুইডেন ক্রিকেট টিমের দায়িত্ব নিতে চলেছেন বিশ্বের সর্বকালের সেরা ফিল্ডার প্রাক্তন সাউথ আফ্রিকান ক্রিকেটার জন্টি রোডস।
পাঞ্জাব কিংসের ফিল্ডিং কোচ জন্টি রোডস
বর্তমানে আইপিলের পাঞ্জাব কিংস দলের ফিল্ডিং কোচ জন্টি রোডস আইপিএল শেষ হলেই নভেম্বরে স্বপরিবারে সুইডেনে পাড়ি দেবেন। ইতিমধ্যেই তার থাকার জন্য ডকুমেন্টেসান সম্পন্ন হয়েছে।
সুইডেনে ইতিমধ্যে ক্রিকেট খেলা নিয়ে যথেষ্ট আগ্রহী সুইডিশ ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন। তারা দেশের বিভিন্ন প্রান্তের ক্রিকেট সংস্থাকে নিয়ে পুরুষ এবং মহিলাদের মধ্যে ক্রিকেটকে ছড়িয়ে দিতে উদ্যোগী । এক ওয়েবসাইটে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুইডিশ ক্রিকেট বোর্ডের এক কর্তা জানিয়েছেন তারা সর্বস্তরে ক্রিকেট প্রসারিত করতে বিভিন্ন রকম পরিকল্পনা ইতিমধ্যেই নিয়েছেন এবং জন্টি রোডসের মত ক্রিকেটারকে কোচ হিসাবে পাওয়ায় প্রচুর ইউং ছেলে মেয়েরা ক্রিকেট খেলতে উৎসাহী হবে। জন্টি রোডস নিজেও এক ওয়েবসাইট সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি নিজেও খুব খুশি সুইডেন ক্রিকেট কোচ হতে পেরে এবং সঠিক সময়ে স্বপরিবারে সুইডেনে থেকে এক নতুন পরিবেশে ক্রিকেট নিয়ে কাজ করার সুযোগ পেয়ে। তিনি নিজেও খুব আশাবাদী সুইডেন ক্রিকেট নিয়ে এবং সুইডেন ক্রিকেটের উন্নতির স্বার্থে নিজের একশো শতাংশ দেবেন।