শাহবাজ বেঙ্গালুরুর ‘ জাদেজা ‘ হতে পারেন

উপযোগী ক্রিকেটার শাহবাজ আহমেদ

রয়েল চ্যালেঞ্জ ব্যাঙ্গালুরু হঠাৎ করে তাদের সোশ্যাল মিডিয়া সাইট থেকে সব কন্টেন্ট মুছে দিতে সকল সমর্থকের মনে হয়েছিল হয়তো দলের নেতৃত্ব বা নামের কোনো পরিবর্তন আনতে চলেছে কিন্তু বাস্তবে যখন আবার সোশ্যাল মিডিয়াতে ফিরে এলো দেখা গেলো শুধু লোগো পরিবর্তনের জন্য করা হয়েছিল। আইপিএলের গত ১২টি পর্বের ব্যর্থতা সমর্থকদের যে হতাশা তৈরি করেছে তা এই রকম উপরিগত পরিবর্তন করে সমর্থকদের উৎসাহিত করতে ব্যর্থ কারণ সফল হতে গেলে দলকে বাইশ গজে পারফর্ম করতে হবে পূরণ করতে হবে এই বাইশ গজের ঘাটতি গুলো।
বিগত আইপিএল গুলোতে ব্যাঙ্গালুরুর ব্যর্থতার কারণ যদি মাত্রারিক্ত বিরাট কোহলি বা এবি দেভলিয়ার্স নির্ভরতা হয় তাহলে ‘ ডেথ ওভারে ‘ স্পেশালিস্ট বোলারের অভাব অন্যতম বৃহৎ কারণ। এই বারেও যদি ব্যাঙ্গালুরুর স্কোয়াড দেখি তাহলে দেখব এই ঘাটতি খুব বেশি পূরণ করতে সক্ষম তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে।
ব্যাটিং টপ অর্ডারে বিরাট কোহলি এবং এবি ডিভলিয়ার্স এর সাথে যুক্ত হয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার আক্রমণাত্বক ব্যাটসম্যান অ্যারন ফিঞ্চ। কোভিড – ১৯ এর আগে দক্ষিণ আফ্রিকার বিরুদ্ধে টি -২০ সিরিজে তিনি ম্যান অফ দা সিরিজ হাওয়া ছাড়াও বিগ ব্যাস প্রতিযোগিতায় প্রায় ১৪০ স্ট্রাইক রেট সহ ৩৬৩ রান করেন। তার এই ছন্দ থাকা অবশ্যই ব্যাঙ্গালুরুর কাছে স্বস্তি দায়ক। ওপেনিং এ ফিঞ্চের সাথে তরুণ প্রতিশ্রুতিমান দক্ষিণী ব্যাটসম্যান যাকে ঘিরে ভারতীয় ক্রিকেট মহল খুবই আশাপ্রদ আগামীদিনে ভারতীয় দলের সম্পদ হাওয়ার ব্যাপারে সেই দেবদত্ত পারিক্কর অথবা অভিজ্ঞ উইকেট কিপার ব্যাটসম্যান পার্থিব প্যাটেল দুজনের একজন সঙ্গী হতে পারেন।
মিডিল অর্ডার বা লোওয়ার মিডিল অর্ডারে ব্যাঙ্গালুরুর সমস্যা আছে তাদের দলে অলরাউন্ডার সাউথ আফ্রিকান ক্রিস মরিস , ভারতীয় শুভম দুবে, কিউই কালীন দি গ্র্যান্ডহোম বা অস্ট্রেলিয়ার মার্কোস স্টইনিস থাকলেও তারা আন্দ্রে রাসেল , হার্দিক পান্ডিয়া বা কাইরন পোলার্ডের মত ধারাবাহিক বা ম্যাচ উইনার না।


পেস বোলিং বিভাগে দলকে নেতৃত্ব দেবেন একদা বিশ্বের সেরা বোলার সাউথ আফ্রিকার ডেল স্টেইন কিন্তু বর্তমানে ৩৬ বছর বয়শী স্টেইন বহুবার চোট আঘাতে জর্জরিত থাকার পর কতটা নিজের সেরা দিতে পারবে এবং দীর্ঘ আইপিএল মরশুমে দুবাইয়ের মতো গরম এবং আদ্র পরিবেশে তা নিয়ে সংশয় থাকছেই। স্টেইন ছাড়াও ভারতীয় দলের বোলার নবদ্বীপ সাইনি অতীতের চেয়ে এখন অনেকবেশি পরিণত এবং তার গতির সাথে ইয়র্কার দেওয়ার ক্ষমতা কিছুটা স্বস্তির ব্যাঙ্গালুরুর পক্ষে। মোহাম্মদ সিরাজের গতিও কাজে লাগতে পারে কিন্তু ডেথ ওভারে আঁটোসাঁটো বোলিং আশাব্যঞ্জক ধারাবাহিকতার অভাব আছে এছাড়াও অভিজ্ঞ উমেশ যাদব এবং শ্রীলঙ্কার উসুরু উদনা কে ব্যবহার করতে পারবে ব্যাঙ্গালুরু।

শাহবাজ আহমেদ


এইবারে আইপিএল যেহেতু দুবাইতে অনুষ্ঠিত হচ্ছে তাই এখনকার উইকেট বিশেষ করে দিনের দ্বিতীয় ভাগে যখন খেলা হবে বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই স্পিনারদের সাহায্য করবে সে ক্ষেত্রে স্পিনারদের ভূমিকা ম্যাচের নির্নায়ক হতেই পারে। ভারতীয় তারকা অভিজ্ঞ এবং ট্রিকি স্পিনার যজুবেন্দ্র চাহালকে দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এবং তাকেও স্পিন বিভাগে নেতৃত্ব দিতে হবে বাড়তি দায়িত্ব নিতে হবে। এছাড়াও ডান হাতি অফস্পিনার ব্যাটসম্যান ওয়াশিংটন সুন্দর দলের সাথে লড়াই মূলত বাঁহাতি স্পিনার অলরাউন্ডার পবন নেগী আর বাংলার শাহবাজ আহমেদের। তবে গতরশুমে ঘরোয়া ক্রিকেটের সব ফরম্যাটে বাংলার হয়ে শাহবাজ যে পারফর্ম করেছে তাই দেখেই ফ্র্যাঞ্চাইজির পছন্দের তালিকাতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছিলেন । শাহবাজ আহমেদের আঁটোসাঁটো বোলিং যেমন ‘ ডেথ ওভারে ‘ কাজে আসতে পারে তেমনি যে কোনো পরিস্থিতি অনুযায়ী লোয়ার অর্ডারে কাজে লাগবেই। চাপের মুখে দাঁতে দাঁতে চেপে লড়াই করার ক্ষমতা ভারতীয় ঘরোয়া ক্রিকেট গত মরশুমে ক্রিকেট মহল প্রত্যক্ষ প্রমাণ পেয়েছে। এছাড়াও দূর্দান্ত ফিল্ডিং পারদর্শিতা শাহবাজ আহমেদের পক্ষেই যাবে। ভারতীয় তথা চেন্নাই এর উপযোগী ক্রিকেটার রবীন্দ্র জাদেজার মতই শাহবাজ কিন্তু ব্যাঙ্গালুরুর উপযোগী ক্রিকেটার হয়ে উঠলে দলের ভারসাম্য অনেকটাই বেড়ে যাবে। এখন পর্যন্ত প্র্যাকটিস ম্যাচ এবং নেটে শাহবাজ আহমেদের উপর টিম ম্যানেজমেন্ট যথেষ্ট আশাবাদী।

Published by Kolkata Club Cricket

Cricket news and informations from every corner

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started