আশার আলো সুদীপ

বিভাস মল্লিক (কেসিসি)–নৈহাটির গরফা অঞ্চলের বাসিন্দা পেশায় রাজমিস্ত্রি সুশান্ত ঘরামী নিজের ক্রিকেটার হওয়ার অধরা স্বপ্ন পূরণ করতে ছেলেকে ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি করালে তার জন্য তাকে যেমন প্রতিবেশীদের কাছে শুনতে হতো কি হবে ছেলেকে ক্রিকেট শিখিয়ে তার চেয়ে লেখা পড়া করে চাকরি করলে ওনার সংসারের অভাব কিছুটা মিটবে ।এই জাতীয় কথা শুধু শুনতে হয়েছিল তা নয় ।এমনও পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয়েছিল যে অন্যের থেকে টাকা ধার করে সুদীপকে ক্রিকেটার সাজ সরঞ্জাম কিনে দিতেও পিছুপা হননি সুশান্ত বাবু এবং যে যাই বলুক তিনি দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন ছেলেকে ক্রিকেট থেকে বিচ্যুত করবেন না তার জন্য যত কষ্ট করতে হয় করবেন।

বাবা, মা ও ভাইয়ের সাথে সুদীপ


দুই সন্তানের পিতা সুশান্ত বাবু বড়ো ছেলে ১২ বছরের সুদীপ ঘোরামিকে স্থানীয় এক ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে ভর্তি করান কোচ দেবেশ চক্রবর্তীর তত্ত্বাবধানে সুদীপের ক্রিকেটের যাত্রা শুরু এখানে থেকেই তারপর অনূর্ধ্ব ১৪ অম্বর রায় ক্রিকেট প্রতিযোগিতা তে ভালো খেলে অনূর্ধ্ব পনেরো দলে সুযোগ পায় সুদীপ। নৈহাটির ক্রিকেট প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকেই সুদীপকে ক্রিকেটার তালিম দেওয়া দেবেশ চক্রবর্তী একসময় সুদীপকে নিয়ে নানান ক্যাম্পে যেখানে যখন সুযোগ হতো সে বারাসাত হোক কিম্বা কলকাতা ময়দান সেখানেই প্রাকটিস করতেন কারণ সেই সময় নৈহাটিতে যেই ক্যাম্পে সুদীপের ক্রিকেট হাতেখড়ি সেই ক্যাম্পে সাথে কোচ দেবেশের সাথে সুদীপের ও সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে ছিল তাই ঘুরে ঘুরে সকাল থেকে সন্ধে পর্যন্ত সুদীপ কে নিয়ে থাকতেন দেবেশ যার ফলে মাধ্যমিক পাশ করার পর বাধ্য হয়েই সুদীপকে পড়াশুনার ইতি টানা।

মাত্র পনেরো বছর বয়সী সুদীপের সালকিয়া ফ্রেন্ডসের হয়ে সিএবি লীগ ক্রিকেটের শুরু তারপর ধাপে ধাপে ধারাবাহিক ভালো পারফরমেন্স করে বাংলার বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক দল যেমন অনুর্দ্ধ ১৬,১৯,২৩ দলের সাথে সাথে কলকাতা ময়দানে প্রথম ডিভিশন ক্লাব তালতলা একতা ,খিদিরপুর ক্লাবের পর বর্তমানে বরিশা স্পোটিং ক্লাবের খেলছেন সুদীপ।


বাংলার ক্রিকেটে সুদীপ ঘরামী বর্তমান প্রজন্মের সেরা প্রতিভাবান তাই দেবেশ চক্রবর্তীর হাত ধরে ময়দানের ২২ গজে আসা সুদীপের প্রতিভা মুগ্ধ করে ভি.ভি. এস লক্ষণ এবং তাকে অবিলম্বে বাংলার হয়ে রঞ্জি খেলানোর কথা বলেন এবং বাংলা দলের কোচ অরুণ লালের মত পাকা জহুরীর সুদীপের প্রতিভা চিনতে কোনো ভুল হয়নি এবং তার ধারাবাহিক ভাবে বাংলার বিভিন্ন বয়স ভিত্তিক দলের হয়ে রান করে যাওয়ার ফলে গত মরশুমে বাংলা সিনিয়ার দলে সুদীপকে অন্তর্ভুক্ত করে সরাসরি রঞ্জি ফাইনালে সৌরষ্ট্র এর বিরুদ্ধে রঞ্জিভিশেক ঘটে থিক যেমন ১৯৯০ সালে বাংলা যে বছর দীর্ঘ পঞ্চাশ বছর পর রঞ্জি ট্রফি জিতে ছিল সেই ফাইনালে দিল্লির বিরুদ্ধে রঞ্জিভিশেক হয়েছিল আমাদের সকলের প্রিয় সৌরভ গাঙ্গুলির এবং অভিষেকে 22 রান করলেও সেই ইনিংস বুঝিয়ে দিয়েছিল আগামী দিনে বাংলা তথা ভারতবর্ষ কি পেতে চলেছেন সুদীপের ক্ষেএেও তাই l ফাইনালে ওপেন করে দুর্ভাগ্যবশত ২৬ রানে আউট হলেও সেই ইনিংসের মধ্যেও আমরা দেখেছিলাম আত্মবিশ্বাস এবং সাবলীল ব্যাটিং ভঙ্গিমা যা আমাদের মত ক্রিকেট প্রেমীদের সাথে সাথে বাংলা ময়দানের ক্রিকেটার এবং প্রাক্তন টেস্ট তারকা দীপ দাসগুপ্ত থেকে দুই প্রধান দলের নিয়মিত খেলোয়াড় এবং বর্তমানের সফল কোচ আব্দুল মোনায়েমদের কাছে আগামীদিনের তারকার জন্ম হয়েছে বলেই মনে হয়েছে। কাকতালীয় ভাবে সৌরভ আর সুদীপের অভিষেকের প্রেক্ষাপট থেকে নামের অদ্য অক্ষরের মিল যা নিয়ে আমরা দুই দুই এ চার করে স্বপ্নের মায়াজাল বুনতে শুরু করেছি।
আগামীদিনের আরো এক তারকার জন্ম কিনা তা আগামী দিন বলবে তবে সুদীপকে বাংলা নেটে বাংলার কোচ অরুণ লাল নানান ভাবে পরামর্শ দেন এবং তাকে মানসিক ভাবে প্রস্তুত করতে সাহায্য করতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন তুখোড় ক্রিকেট মস্তিষ্ক অরুণ লাল কারণ তুমি জানেন সুদীপ ঘরামী কি অসম্ভর প্রতিভায় সমৃদ্ধ।
বঙ্গ ক্রিকেটের স্বপ্ন সুদীপ যে আগামীদিনে বাংলা এবং দেশের হয়ে সাফল্য এনে দিক সেই আশাতেই এখন বাংলার ক্রিকেট প্রেমীরা আশার আলো দেখছেন আর সুদীপের নিজের লক্ষ্য বাংলা দলের হয়ে রান করে যাওয়া যাতে জাতীয় দলের দরজা খুলে যাওয়া কারণ যে কোনো মুল্যে বাবার স্বপ্ন পূরণ তাকে করতেই হবে। তার নিজের চোখে দেখা বাবা এবং পরিবারের নানা প্রতিকূল অবস্থাতেও কিভাবে তাকে ক্রিকেটের জন্য সবরকম ভাবে তার পাশে দাঁড়ানোর ইতিহাস আর এটাই সুদীপের সর্বোচ্চ পর্যায়ে ক্রিকেট খেলার সবচেয়ে বড়ো প্রেরণা।

Published by Kolkata Club Cricket

Cricket news and informations from every corner

Leave a comment

Design a site like this with WordPress.com
Get started