
বিভাস মল্লিক- ডান হাতি ফাস্ট বোলার জেমস মাইকেল অ্যান্ডারসন বা জিমি অ্যান্ডারসন টেস্ট ক্রিকেটের ৬০০ ক্লাবের চতুর্থ সদস্য হলেন গত ২৬ শে আগস্ট ২০২০ তারিখে পাকিস্তানের অধিনায়ক আজহার আলীর উইকেট দখল করে। এই ক্লাবের বাকি তিন সদস্য হলেন টেস্ট ক্রিকেটে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারী শ্রীলঙ্কার মুরলিধরন (৮০০ উইকেট) অস্ট্রেলিয়ার ওয়ার্ণে (৭০৮ উইকেট ) এবং ভারতের অনিল কুম্বলে(৬১৯ উইকেট) কিন্তু প্রথম ফাস্ট বোলার হিসেবে জিমি ৬০০ ক্লাবের মালিক হলেন।
২০০৩ সালে ২২শে মে লর্ডসে জিম্বাবুয়ের বিরুদ্ধে ২০ বছর বয়সী অ্যান্ডারসনের টেস্ট অভিষেক আর প্রথম টেস্ট ইনিংসেই ৭৩ রানে ৫ উইকেট নিয়ে তিনি ইংল্যান্ড নির্বাচকদের বুঝিয়ে দিয়েছিলেন তিনি লম্বা রেসের ঘোড়া। জিমি অ্যান্ডারসন ইংল্যান্ডের ল্যাঙ্কাশায়ার কাউন্টি ক্লাবের হয়ে প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেট শুরু করেন এবং ১৪ই মে ২০০৩ সালে ২০ বছর ২৮৮দিন বয়সী জিমি সর্ব কনিষ্ঠ ল্যাঙ্কাশায়ার ক্রিকেটার হিসেবে পর পর তিন বলে বিপক্ষের ব্যাটসম্যান ড্যারেন রবিনসন, নাসির হুসেন এবং উইল জেফারসনের উইকেট হ্যাটট্রিক করেন। জিমি অ্যান্ডারসন ডান হাতে ফাস্ট বোলিং করলেও ব্যাটসম্যান জিমি বাঁহাতি সবাই জানি কিন্তু তিনি ছোটবেলায় বাঁহাতি স্পিনার ছিলেন এবং পরবর্তী কালে নেটেও বাঁহাতি স্পিনার হিসাবে ইংল্যান্ড ব্যাটসম্যানদের বল করতেন । কিংসমিডে এক প্রদর্শনী ম্যাচে অ্যান্ডারসন তার বাঁহাতের স্পিনে একদা ইংল্যান্ডের সতীর্থ ইয়ান বেলকে আউট করেন। অ্যান্ডারসনের প্রথম শ্রেণীর ক্রিকেটে বাঁহাতি স্পিনার হিসাবে খেলার স্বপ্নও আছে। এখনো পর্যন্ত ১৫৬টি টেস্টে ৬০০ উইকেটের মালিক জেমস অ্যান্ডারসনের বলে সবচেয়ে বেশিবার আউট ড্রেসিং রুমে ফেরত গেছেন অস্ট্রেলিয়ার পিটার সিডল (১১) তারপর মাস্টার ব্লাস্টার সচিন তেন্ডুলকর , মাইকালে ক্লার্ক, এবং আজহার আলী প্রত্যেকেই ৯ বার আউট হয়েছেন। অ্যান্ডারসন ৩০ বছর বয়সের পর ইংল্যান্ডের টেস্ট বোলারদের মধ্যে সর্বোচ্চ উইকেট শিকারীর তালিকায় শীর্ষে তিনি ৩০প্লাস বয়সে এখন পর্যন্ত ৩৩২ টি উইকেট নেন এরপর বব উইলিস (৩২৫), ফ্রেড ট্রুম্যান (৩০৭), ডেরেক আন্ডারউড (২৯৭) পান। আর অনূর্ধ্ব ৩০ বয়সে অ্যান্ডারসন টেস্টে ২৬৮ উইকেট নেন তারপরে অফস্পিনার গ্রেম সোয়ান (২৫৫)। ২০০৩ সালে অ্যান্ডারসন প্রথম ইংল্যান্ডের বোলার হিসাবে একদিনের ক্রিকেটে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে পর পর তিন বলে আব্দুর রাজ্জাক, সোয়েব আখতার এবং মোঃ সামি কে আউট করে হ্যাটট্রিক করেন।